নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে নতুন মেরুকরণ
স্টাফ রিপোর্টার:নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে নতুন মেরুকরণের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। জেলা ও মহানগরের সীমানা নির্ধারণে বড় রকমের পরিবর্তন আসতে পারে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। এর পাশাপাশি নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও চমক সৃষ্টি হতে পারে বলে জানা গেছে।
সূত্র মতে, রাজধানী ঢাকার অত্যন্ত নিকটবর্তী নারায়ণগঞ্জ জেলা। দেশের মধ্যে এই জেলার গুরুত্ব অপরসীম। অর্থনীতি, রাজনীতিসহ নানা কারণে এই জেলার গুরুত্ব অনেক বেশি। ফলে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের দৃষ্টিও থাকে এই জেলার দিকে। ভৌগলিকভাবে এই জেলার গুরুত্ব বেশি হলেও সাংগঠনিক সীমানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে এখানে বিএনপির ভূমিকা সন্তোষজনক নয়। ফলে এ নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে একধরণের অসন্তোষ ছিল লক্ষ্যণীয়। তবে এবার দলের মধ্যকার এই অসন্তোষ দূর করার উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় বিএনপি।
দলের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জে বিএনপির রাজনীতি জেলা ও মহানগর কেন্দ্রিক দুই ইউনিটের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তবে সীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে এখানে কিছুটা গোলমেলে অবস্থা রয়েছে। এখানে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপি জেলার সঙ্গে থাকলেও এখানকার অঙ্গ ও সহযোগি প্রতিটি সংগঠনকেই রাখা হয়েছে মহানগরের সঙ্গে। এতে করে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে নেতাদের মধ্যে যে সমন্বয়হীনতা রয়েছে তা দূর করার জন্য সিদ্ধিরগঞ্জ বিএনপিকে এবার জেলা থেকে অবমুক্ত করে মহানগরের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অতিদ্রুত এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে বলে সূত্র থেকে জানা গেছে। এমনটি বাস্তবায়িত হলে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতির সমীকরণে আসবে ভিন্নতা। পরিবর্তন আসতে পারে নেতৃত্বের ক্ষেত্রে। শোনা যাচ্ছে, অমন সমীকরণে মহানগরের নেতৃত্বে গিয়াসউদ্দিনের আবির্ভাভ হতে পারে।
সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ বিএনপির প্রভাবশালী একজন নেতা হচ্ছেন সাবেক এমপি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন। তিনি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা অঞ্চলের বাসিন্দা। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তার রয়েছে বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ইতিহাস। ছাত্রাবস্থায় তিনি সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের দুই দুবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান। সদর উপজেলার ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। এছাড়াও দেশের মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা হিসেবে বিবেচিত নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়; সারা দেশের উপজেলা চেয়ারম্যানদের চেয়ারম্যানও ছিলেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা।
অন্যদিকে গডফাদার শামীম ওসমানের মতো একজন প্রভাবশালী প্রার্থীকে পরাজিত করে ২০০১ সালে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন। বিগত ১৭ বছর এই গিয়াসউদ্দিনসহ তার পরিবার বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থাকার অপরাধে ব্যাপক নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন এবং একাধিকবার তিনিসহ তার সন্তান জনপ্রিয় সাবেক কাউন্সিলর মুহাম্মদ সাদরিলও কারাবরণ করেন। সবশেষ সম্মেলনের মাধ্যমে জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হোন। তিনি জেলা বিএনপির দায়িত্ব পাওয়ার পর এই জেলায় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ভিন্ন ধারার শক্তি সঞ্চার হয়। অনেকের কাছে তিনি সাহসের বাতিঘর হয়ে উঠেন।
এদিকে সূত্র বলছে, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপিকে মহানগরের সঙ্গে অন্তভর্ভূক্ত করা হলে জেলার রাজনীতি থেকে মহানগরের রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন ঘটতে পারে বলেই বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এছাড়াও সূত্র আরও জানায়, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে গিয়াসউদ্দিন পরিবার থেকে মেয়র পদে নির্বাচন করতে পারেন।
অপরদিকে শিল্প অধ্যুষিত ফতুল্লা অঞ্চলও সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত খুব শিগগিরই হতে যাচ্ছে। ফলে ফতুল্লাও মহানগরের অন্তর্ভূক্ত হতে যাচ্ছে বলে সূত্রটি জানায়। সূত্র আরও জানায়, এমন সমীকরণে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ যে ঘটতে যাচ্ছে তা বলার অপেক্ষা আর রাখে না।
আরএস/ডিএ

মতামত দিন