বিশেষ খবর

এমপি মান্নানের পাশে বৈষম্যবিরোধী হত্যা মামলার আসামিরা

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি:

নির্বাচনে জয়লাভের পর থেকেই নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের এমপি আজহারুল ইসলাম মান্নানের পাশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আসামিদের অবস্থান নিয়ে সমালোচনার ঝড় সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ছবিতে দেখা যায়, সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়েরকৃত হত্যা মামলার আসামি হিসেবে অভিযুক্ত দুই আসামি মো. হাবিবুল্লাহ ওরফে হবুল এবং মোক্তার হোসেন সরকার এমপি মান্নানকে ফুল দিয়ে বরণ করছেন। পাশাপাশি সিদ্ধিরগঞ্জের আওয়ামী লীগের দোসরদের মান্নানের পাশে হাস্যজ্জ্বল অবস্থায় দেখা গেছে।

স্থানীয় সূত্র ও দলীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় দায়ের হওয়া একাধিক হত্যা মামলায় হাবিবুল্লাহ হবুল এবং মোক্তার হোসেন সরকারের নাম রয়েছে। সংশ্লিষ্ট থানার মামলা নথিতে তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা, সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণের অভিযোগ উল্লেখ আছে। তবে এসব মামলার বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায় নি। পাশাপাশি মান্নানের পাশে দেখা গেছে স্বৈরাচারের দুই দোসর আব্দুল মতিন এবং হবুলের পিএস মো. শাজাহানকে। যারা প্রত্যেকেই সিদ্ধিরগঞ্জের হীরাঝিল এলাকার বাসিন্দা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হাবিবুল্লাহ হবুল, মোক্তার হোসেন ও দেলোয়ার হোসেন ফুটপাত দখল করে দোকান বসানো এবং সেখান থেকে চাঁদা আদায়ের মাধ্যমে প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, নিয়মিত চাঁদা না দিলে দোকান বসতে দেওয়া হতো না। মূলত তখন তারা হীরাঝিল আবাসিক এলাকা সমাজকল্যাণ সমিতির নামে এসব অপকর্ম করে বেড়াতো। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় তারা আত্মগোপনে চলে গেলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আবারও তাদের এলাকায় সক্রিয় হতে দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি এমপি মান্নানের সঙ্গে প্রকাশ্যে ছবি তোলার ঘটনায় তারা নতুন করে সংগঠিত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন অভিযোগ বিএনপি নেতাদের।

এদিকে সম্প্রতি প্রভাব খাটিয়ে মোক্তার হোসেন সরকার হীরাঝিল সমাজকল্যাণ সমিতিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন। পাশাপাশি আব্দুল মতিন এবং দেলোয়ার হোসেন সরকার মসজিদ কমিটির দায়িত্ব পেয়েছেন। এর ফলে আওয়ামী লীগের দোসরদের পুনর্বাসনের ফলে স্থানীয়দের মধ্যে কাজ করছে ক্ষোভ।

হীরাঝিল এলাকায় বসবাসরত স্থানীয় বাসিন্দা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন ক্ষোভের সুরে বলেন, এই কয়েকজন আওয়ামী লীগের অনুসারীদের পুনর্বাসন করার কারণে আমি দীর্ঘদিন ধরে হীরাঝিল সমাজকল্যাণ সমিতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছি। ফলস্বরুপ তারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। অথচ এখনো পর্যন্ত এই হবুল, মোক্তার, মতিনদের বিরুদ্ধে কেউ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। বিগত আওয়ামী লীগের সময় তাদের অন্যায় কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করায় তারা আমাকে সমাজছাড়া করেছিল। 

তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এমপি মান্নানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তার ঘনিষ্ঠ এক সহযোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ফুল দিয়ে বরণ করার অর্থ এই নয় যে কাউকে পুনর্বাসন করা হচ্ছে। এলাকায় নানা শ্রেণিপেশার মানুষই সংসদ সদস্যের সঙ্গে দেখা করতে আসেন। ফুল দিয়ে ছবি তোলেন। কাউকে তো তিনি মানা করতে পারেন না।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, মামলাগুলো বিচারাধীন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী বা নির্দোষ বলা যাচ্ছে না। তবে আসামিরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে কি না এ বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। 

আরএস/ডিএ

মতামত দিন